বাড়িতে চুরি বেশি হয় দুই সময়ে — রাতে সবাই ঘুমালে, আর দিনে বাসা খালি থাকলে। দুটোর ব্যবস্থা আলাদা।
প্রথমে নিজের বাড়িটা চোরের চোখে দেখুন
একদিন সন্ধ্যায় বাইরে দাঁড়িয়ে ভাবুন — আমি যদি চোর হতাম, কোন দিক দিয়ে ঢুকতাম? বেশিরভাগ মানুষ তখনই দুর্বল জায়গাটা ধরতে পারেন:
- পিছনের দরজা, যেটা কেউ দেখে না
- বাথরুম বা রান্নাঘরের জানালা
- ছাদের দরজা
- পাশের দেয়াল, যেটা টপকানো সহজ
- গ্যারেজ বা সিঁড়িঘর
ধাপ ১ — দরজা
বেশিরভাগ চুরিতে চোর দরজা দিয়েই ঢোকে।
- দরজার কব্জা ভিতরের দিকে কি না দেখুন — বাইরে থাকলে পিন খুলে দরজা তুলে নেওয়া যায়
- ভিতরে একটা অতিরিক্ত ছিটকিনি লাগান
- দরজার ফ্রেম দুর্বল হলে তালা যত ভালোই হোক, লাথিতে খুলে যাবে
ধাপ ২ — জানালা
- গ্রিল থাকলেও ঝালাই ভালো কি না দেখুন
- নিচতলার জানালায় বাড়তি ছিটকিনি
- এসির পাশের ফাঁক — অনেকে ভুলে যান
ধাপ ৩ — আলো
বাইরের একটা বাতি সারারাত জ্বালানো — মাসে সামান্য খরচ, কিন্তু চোরের সবচেয়ে অপছন্দের জিনিস।
ধাপ ৪ — বাসা খালি রেখে গেলে
দূরে গেলে বাড়ি যেন খালি মনে না হয়:
- একটা বাতি টাইমারে দিন — সন্ধ্যায় জ্বলে, রাতে নেভে
- দরজার সামনে পত্রিকা-চিঠি জমতে দেবেন না — প্রতিবেশীকে বলে যান
- বাইরে জামা-কাপড় ঝুলিয়ে রাখবেন না
- ফেসবুকে বেড়ানোর ছবি ফিরে এসে দিন — যাওয়ার সময় নয়
ধাপ ৫ — অ্যালার্ম
উপরের সব ব্যবস্থা চোরকে দেরি করায়। কিন্তু ঢুকেই পড়লে?
রাতে ঘুমিয়ে থাকলে চোর ঘরে ঢুকে গেলেও টের পাওয়া যায় না — আর এটাই সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার, কারণ ঘরে পরিবার থাকে।
একটা অ্যালার্ম দুটো কাজ করে:
- আপনাকে জাগায় — আপনি জেনে যান, প্রস্তুত হতে পারেন
- চোরকে তাড়ায় — সে বোঝে বাড়ি জেগে গেছে
দ্বিতীয়টা সবচেয়ে জরুরি। মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে চোর পালিয়ে যাওয়াই ভালো।
অ্যালার্ম নেওয়ার সময় যা দেখবেন
- ইন্টারনেট ছাড়া চলে কি না
- বিদ্যুৎ গেলেও চলে কি না (শর্ত প্রযোজ্য)
- ভুয়া আওয়াজ কম কি না — রোজ বাজলে পরিবার বিরক্ত হয়ে বন্ধ করে রাখবে
- বাচ্চারা সহজে বন্ধ করতে পারে কি না
- দেশে সার্ভিস আছে কি না
ভুলেও যা করবেন না
- দরজার ম্যাটের নিচে বা টবের ভিতরে চাবি রাখবেন না — চোর সবার আগে ওখানেই খোঁজে
- টাকা-গয়না আলমারির উপরের তাকে নয় — সবাই ওখানেই রাখে
- নতুন টিভি-ফ্রিজের খালি বাক্স বাইরে ফেলবেন না — ওটা বিজ্ঞাপন
আমার পরামর্শ
সব একদিনে করার দরকার নেই। আজ শুরু করুন দুটো দিয়ে — পিছনের দরজায় ভিতরের ছিটকিনি, আর বাইরে একটা বাতি। এতেই বড় অংশ কমে যায়।
আমি মোহাম্মদ সুজন রহমান — বছরের পর বছর গবেষণা করে বাংলাদেশেই Flash Guard বানিয়েছি। এই লেখাগুলো আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে, যেন আপনার কাজে লাগে।
